কাযা_নামাজের_নিয়ম_কি?

 কাযা_নামাজের_নিয়ম_কি?


▶নিয়মঃ কাযা নামাযের নিয়ম একদম সাধারণ নামাযের মতই। সাধারণ নামাজ যেভাবে পড়েন, কাযা নামাজও সেভাবে পড়বেন। কাযা নামাজের নিয়মে কোন পার্থক্য নেই, শুধুমাত্র নিয়ত বাদে। শুধুমাত্র নিয়তটাই ভিন্ন। 


▶নিয়তঃ কোন ওয়াক্তের কতো রাকাত নামায কাযা করছেন এটা নিয়ত করবেন।


▶আমার যদি অনেক দিনের নামাজ কাযা হয়ে থাকে, ওয়াক্তের নামাজ নাকি কাযা নামাজ আগে পড়তে হবে?


কাজা নামাজ ওয়াক্তিয়া নামাজের আগেও পড়া যায়/

পরেও পড়া যায়।

এটা আপনার ইচ্ছা।


যদি বালেগা হওয়ার পর থেকে আপনার জিম্মায় মাত্র ৫ ওয়াক্ত বা তার কম নামায কাযা থাকে তাহলে ওয়াক্তিয়া নামায পড়ার আগে কাযা নামাজ গুলি আদায় করে নিতে হবে।


তবে আপনার জিম্মায় যদি ৬ বা ততোধিক ওয়াক্তের কাযা নামাজ আদায় করা বাকি থাকে তাহলে আপনাকে কাজা নামাজ আগে পড়তে হবে না। আপনি ওয়াক্তিয়া নামাজ আগে পড়ে তারপর কাজা নামাজ পড়তে পারবেন। আবার আপনার ইচ্ছা হলে কাজা নামাজ পড়েও ওয়াক্তিয়া নামাজ পড়তে পারবেন।


▶অনেক নামাযের কাযা বাকি থাকলে সেটাকে বলে উমরী কাযা।


এর নিয়ম হচ্ছে -

উমুরী কাযা নামায আদায় করতে হলে প্রথমে কোন ওয়াক্ত নামায কত রাকাত কাযা হয়েছে তা নির্ণয় করে নিতে হবে। মানে ফজর কয় রাকাত কাযা হয়েছে, যুহর কয় রাকাত কাযা হয়েছে।


যদি তা জানা সম্ভব না হয়, তাহলে অনুমান করে নিবে। অনুমান করে কোন নামায কত ওয়াক্ত কাযা করেছে তা নির্ধারণ করে নিবে। তারপর একে একে তা আদায় করবে।


⏸যেমন


ফজরের নামায ৭০ ওয়াক্তের কাযা হয়েছে। তখন কাযা নামায আদায় করার সময় এভাবে নিয়ত করবে, "আমার জিম্মায় যত ফজরের নামায কাযা আছে, তার অনাদায়কৃত প্রথম ফজরের কাযা আদায় করছি” এমন নিয়তে নামায আদায় করবে।


তারপর তার যিম্মায় ৬৯ ওয়াক্তের ফজরের নামায বাকি থাকে। তবু এভাবেই নিয়ত করবে যে, "আমার যিম্মায় যত ফজরের নামায কাযা আছে, তার প্রথম অনাদায়কৃত ফজরের নামাযের নিয়ত করছি”। এভাবে হিসেবে করে পড়তে থাকবে। প্রতিবার অনাদায়কৃত প্রথম ফজর নামায বলার দ্বারা যে নামায বাকি আছে, তার প্রথম নামাযের নিয়ত হচ্ছে, তাই নিয়তটি নির্দিষ্ট নামাযের হয়ে যায়।


ঠিক উল্টোভাবেও করা যায়। অর্থাৎ "যত নামায কাযা আছে তার সর্বশেষ অনাদায়কৃত কাযার নিয়ত করছি।" এভাবেও পূর্বোক্ত পদ্ধতিতে বাকি নামাযের কাযা আদায় করা যাবে।


এভাবে বাকি নামায আদায় করবে। যোহর, আছর, মাগরিব, ইশাও এভাবে আদায় করবে।


▶কাযা নামাজ কখন পড়া যায়, কখন যায় না?

একদিনে একাধিক কাযা নামাজ- চারদিন পাঁচদিনের, যত দিনের ইচ্ছে আদায় করা যাবে, কোন সমস্যা নেই।


প্র‍তি ওয়াক্তে যেকোন সময়েই কাযা নামাজ পড়া যাবে।

শুধু নিচের এই ৩ নিষিদ্ধ সময়গুলোতে কোন কাজা নামাজ পড়া যাবে না।


১/সূর্য ওঠার সময়

২/সূর্য যখন একদম মাথার ওপর থাকে যাকে দ্বিপ্রহর বলে

৩/সূর্য ডোবার সময়


তবে অনেকের ভুল ধারণা আছে যে নফল নামাজ পড়ার মাকরুহ সময় ২টিতে কাযা নামাজ নাকি পড়া যায় না।

মাকরুহ সময়ে

 (ফজরের পর থেকে সূর্য উঠার আগে,

 আর আসরের পর থেকে সূর্য ডোবার আগে)

কোন নফল নামাজ পড়া যাবে না।


কোন কারণে রমজানের ফরজ রোজা না রাখলে যেমন তওবার পাশাপাশি রোজার কাজা আদায় করতে হয়, কখনো কখনো কাফফারাও দিতে হয় তেমনি কেউ ফরজ / ওয়াজিব নামাজ কাজা করলেও শুধুমাত্র তওবার দ্বারাই নামাজের জিম্মাদারি পুরোপুরি আদায় হয় না। তওবার পাশাপাশি কাজা আদায় করতে হবেই।


Post a Comment

Previous Post Next Post