ঈদের দিন মোটামুটি সবার বাসায় একটু আকটু মশলাদার খাবারের আয়োজন করা হয়। কিন্তু এসব খাবার খাওয়ার সময় কিছু সতর্কতা মানতে হবে। চলুন আজ আমরা বিরিয়ানি সম্পর্কে জানব।
♦️হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানির স্বাস্থ্য সুবিধা-
হাইদ্রাবাদি বিরিয়ানিতে কিছু মশলা রয়েছে যেগুলো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসাবে সুপরিচিত।এই মশালাগুলার মধ্যে রয়েছে হলুদ, জিরা,
কালো মরিচ, আদা, রসুন, জাফরান। হলুদ এবং আদা
হজমে সহায়তা করে এবং
আদা বমি বমি ভাব প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। জিরা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, পাশাপাশি অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্যবিশিষ্ট।এছাড়াও গোল মরিচ ব্যবহৃত হয় যা
হজমে সহায়তা করে। জাফরানলিভারকে সুস্থ্য রাখে এবং শরীরকে ডিটক্সাইফাই করে। এরই মধ্যে পেঁয়াজ এবং রসুন শরীরকে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে রক্ষা করে
পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যালিসিন, সালফিউরিক উপস্থিতির মাধ্যমেযৌগিক, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি 6 এবং সি, তামা এবংসেলেনিয়াম এই মশালাগুলি একত্রিত করে গ্লুটাথিয়ন তৈরি করে, এদিকে,
আদা ক্যান্সারজনিত কোষগুলি মারার জন্য পরিচিত, যা কাজ করেকেমোথেরাপির চেয়ে ভাল।
♦️উদ্ভিজ্জ বিরিয়ানির স্বাস্থ্য উপকারিতা হলঃ
উদ্ভিজ্জ বিরিয়ানিতে কম পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। সুতরাং এটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট। এটি একটি ভাল
ডায়েটারি ফাইবার এবং ম্যাঙ্গানিজের উৎস। এটি প্রস্তুত করা হয়
বিভিন্ন ধরণের তাজা শাকসব্জি যেমনঃগাজর, মটরশুটি, ফুলকপি, সবুজ মটর, কর্ন, মাশরুম এবংআলু ইত্যাদি। উদ্ভিজ্জ বিরিয়ানি বানাতেও আদা, রসুন,পিঁয়াজ সহ একাধিক মসলাকে কাজে লাগানো হয়ে থাকে।এই সবকয়টির মধ্যেই প্রচুর পরিমাণ পুষ্টিকর উপাদান মজুদ তো থাকেই, সেই সঙ্গে উপস্থিত থাকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মতো শক্তিশালী কম্পোনেন্ট।
♦️মুরগির বিরিয়ানির স্বাস্থ্য উপকারিতা
মুরগি নায়াসিন এবং ভিটামিন-বি এর একটি ভাল উৎস।শরীরের বেঁচে থাকার জন্য জলের পর যে উপাদানটির প্রয়োজন পরে,সেটি হলো প্রোটিন। আর বিরিয়ানির ভিতর লুকিয়ে থাকা মুরগির মাংসের পিসটা সেই প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সেই সঙ্গে মুরগির মাংসে থাকা আরও সব উপকারী উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি হজম ক্ষমতার উন্নতিতে এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
স্বাস্থ্যের কথা ভেবে কী কী উপাদান বারিয়ানি বানানোর সময় ব্যবহার করা চলবে না?
১. যতটা সম্ভব কম পরিমাণ তেল ব্যবহার করতে হবে এবং অলিভ অয়েল বা সরিষার তেল ব্যবহার করতে হবে।
২. সাধারণ চালের পরিবর্তে ব্রাউন রাইসকে কাজে লাগাতে হবে।
৩. বেশি করে শাক-সবজি ব্যবহার করতে হবে। যদি বিরিয়ানি কে আরো স্বাস্থসম্মত এবং পুষ্টিকর করতে চান সেক্ষেত্রে পালং শাক, ধনে পাতা, ব্রকলি, ফুলকপি প্রভৃতি দিতে পারেন।
৪. ভুলেও রেড মিট ব্যবহার করা চলবে না। কারণ বেশি মাত্রায় পাঁঠার মাংস খেলে শরীরের বেশ ক্ষতি হয়।
৫. অনেকেই বিরিয়ানিকে সুস্বাদু করে তুলতে ডালডা ব্যবহার করে থাকেন। এমনটা করা একেবারেই উচিত নয়। কারণ ডালডার মতো উপাদান বেশি মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে হার্টের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
৬.যদিও মশলার উপকারিতা রয়েছে তবে বেশি পরিমাণে মশলা ব্যবহার করা যাবে না এবং খাওয়ার সময় পরিমাণে অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
#টিপস
বিরিয়ানি খাওয়ার সময় সাথে সবজি ও ফলের সালাদ রাখুন।খাওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পর যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করুন। ঈদের দিন বলে যে বিরিয়ানি তিন বেলা খাবেন এমনটি করবেন না।যেকোনো একবেলা খাবেন। যাদের অতিরিক্ত ওজন তারা বিরিয়ানি এড়িয়ে চলুন।
