চাচাতো বোনের বিয়েতে এসে এরকম একটা পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে এটা কখনোই ভাবতে পারেনি স্নিগ্ধা।চাচাতো বোনের বিয়েতে এসে নিজেকেই যে বিয়ের পিড়িতে বসতে এটা স্বপ্নেও কোনদিন ভাবতে পারেনি।তো চলুন আগে স্নিগ্ধার সম্পর্কে কিছু জেনে নিয়----
(এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরে গিয়েছে যে আমাদের গল্পের নায়িকা কে।হুম স্নিগ্ধা হচ্ছে আমাদের নায়িকা।পুরো নাম অসমিলা চৌধুরী স্নিগ্ধা।বর্তমানে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনা করছে।স্নিগ্ধার বাবা মা উভয়েই ডাক্তার।স্নিগ্ধার একটা বড় ভাইও আছে,তার সম্পর্কে পরে বলছি।স্নিগ্ধা দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি মায়াবী,চোখের চশমাটার কারণে তাকে আরো বেশি কিউট লাগে,স্নিগ্ধার গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা,চুলগুলো প্রায় কোমড় পর্যন্ত লম্বা।এবার আসি স্নিগ্ধা কেমন স্বভাবের মেয়ে।শান্তশিষ্ট,ভদ্র স্বভাবের একটা মেয়ে স্নিগ্ধা,অপরিচিত কারো সাথে প্রয়োজন ছাড়া খুব একটা কথা বলে না।কিন্তু হ্যাঁ বন্ধুদের সাথে ফাজলামি,দুষ্টুমি সব করে।স্নিগ্ধা সহজে রাগে না বা কারো সাথে তর্ক করে না কিন্তু যখন রেগে যায় তখন পুরো পৃথিবী ধ্বংস করে দেবে।আপাতত এটুকুই বাকিটা আস্তে আস্তে জেনে যাবেন।)
স্নিগ্ধার চাচাতো বোন সায়নি,সায়নি স্নিগ্ধার আপন চাচাতো বোন না দূরসম্পর্কের চাচাতো বোন।আসলে সায়নির বাবা স্নিগ্ধার বাবার চাচাতো ভাই।সায়নির সাথে অর্ক নামের একটা ছেলের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু শেষ মুহুর্তে এসে সায়নিকে আর পাওয়া যাচ্ছে না মানে সায়নি কারো সাথে পালিয়ে গিয়েছে।এখন সবাই স্নিগ্ধাকে চেপে ধরছে সায়নির জায়গায় অর্ককে বিয়ে করার জন্য।স্নিগ্ধা চুপচাপ বসে বসে বসার কান্ড দেখছে।বিয়েতে সে কখনই আসতো না শুধুমাএ তারা বাবার জন্য এসেছে।স্নিগ্ধার বাবা-মা কোন মতেই এই সিদ্ধান্তে রাজি নয়।এখানে স্নিগ্ধা তার বাবা-মা ছাড়া কাউকেই চিনেনা। ইম্প্যাক্ট তাকেও কেউ চিনেনা কিন্তু সবাই তাকে পণ্যের মতো বিক্রি করে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।
---- শোন,আমি যেটা বলেছি সেটাই হবে।এই মেয়ের সাথেই অর্কের বিয়ে হবে।এর থেকে বেশি আমি কিছু শুনতে চাইছি না।(গম্ভীরভাবে)
এই কথাটা যিনি বলেছেন তিনি হচ্ছে রোকেয়া হাসান,সায়নির দাদী।এই মহিলাকে স্নিগ্ধা মোটেও সহ্য করে পারেনা এখন।কেন পারেনা চলুন সেটা একটু জেনে আসি।
ফ্ল্যাশব্যাক.......🍁🍁🍁🍁
কোণায় একটা চেয়ারে বসে ফোন টিপছে স্নিগ্ধা।আপাতত তার আশেপাশে তার বাবা-মা কোথাও নেই।কিছুক্ষন পর হঠাৎ কোথা থেকে যেন একজন বয়স্ক টাইপের মহিলা এসে তার পাশে বসলো,সে আর কেউ না রোকেয়া হাসান।স্নিগ্ধা সেদিনে মন না দিয়ে ফোন টিপতে লাগলো।
---- তুমি আকাশের(স্নিগ্ধার বাবা) মেয়ে না?(গম্ভীরভাবে)
স্নিগ্ধা এবার ফোন থেকে চোখ সরিয়ে রোকেয়া হাসানের দিকে তাকাই কিন্তু কিছু বলেনা।
রোকেয়া হাসানঃ কি হলো?কথা বলতে পারো না নাকি?
স্নিগ্ধা ভ্রু-কুচকে ওনার দিকে তাকাই।
স্নিগ্ধাঃ জ্বি,আমি আকাশ চৌধুরীর মেয়ে।
রোকেয়া হাসানঃ হুম।তা কি করো তুমি?
স্নিগ্ধাঃ পড়াশোনা।(বিরক্ত নিয়ে)
রোকেয়া হাসানঃ ও বাবা,তুমি এখনও পড়াশোনা করো।(অবাক হওয়ার ভান করে)
স্নিগ্ধাঃ চুপ।
রোকেয়া হাসানঃ তা বিয়ে-টিয়ে করেছো নাকি?
স্নিগ্ধাঃ না।(গম্ভীরভাবে)
রোকেয়া হাসানঃ কেন?কোন ছেলের সাথে সম্পর্ক-টম্পর্ক আছে নাকি?
এ কথাটা স্নিগ্ধাকে রাগিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।স্নিগ্ধা কিছু বলতে যাবে তার আগেই তার মা তাকে সেখান থেকে নিয়ে চলে গেলো।
ফ্ল্যাশব্যাক এন্ড.....🍁🍁🍁🍁
কারো কথাই স্নিগ্ধা বর্তমানে ফিরে আসে।
স্নিগ্ধার মাঃ আমি আমার মেয়েকে যেখানে-সেখানে হুট করে বিয়ে দেবোনা।
রোকেয়া হাসানঃ জয়নাব(সায়নির বাবা) ওদের দুজনকে বলে দে আমার কথাই শেষ কথা।এরচেয়ে বেশি আমি কিছু শুনতে চাইনা।
সালমা (সায়নির ফুপি)ঃ হুম মা যেটা বলছে সেটা একদম ঠিক।আর এই মেয়ের জন্য অর্কের মতো এতো ভালো ছেলের সম্বন্ধ কোনদিনও আসবে বলে মনে হয়না।আমাদের সায়নি এর চেয়েও হাজারগুণ ভালো ছিল।এই মেয়ে তো চোখে কম দেখে,সেইসাথে কিছুটা বেঁটেও,গায়ের রঙটাও একটু চাপা।এই মেয়েকে বিয়ে করার জন্য কোন সুদর্শন পুরুষ আসবে শুনি।তাই বলিকি অর্কের সাথেই এর বিয়ে দিয়ে দাও।তাহলে তোমাদেরই লাভ,নাহলে এই মেয়ে সারাজীবন কুমারীই থেকে যাবে আর তোমাদের ঘাড়ে বসে বসে খাবে।আর এখন জানো তো যুগটা কি রকম।এতো বড় মেয়েকে ঘরে রাখা ঠিক না,না জানি কখন আবার তোমাদের মুখে চুনকালি মেখে দেয়।
স্নিগ্ধার মাঃ মুখ সামলে কথা বলুন।(রেগে)
সালমাঃ ওমা,রেগে যাচ্ছেন কেন?আমি তো শুধু সত্যি কথা বলছিলাম।আসলে কি জানেন তো সত্যি কথা বললে না সবারই গায়ে লাগে।
রোকেয়া হাসানঃ আহ্..আমি এতো কথা শুনে চাচ্ছি না।আমার কথাই শেষ কথা।অর্কের সাথেই এই মেয়ের বিয়ে হবে।তোমরা সবাই ওকে তাড়াতাড়ি তৈরি করে দাও।
স্নিগ্ধা অসহায় দৃষ্টিতে তার বাবা-মার দিকে তাই।
স্নিগ্ধার মাঃ আমি বলেছিনা আমি আমার মেয়েকে এভাবে হুটহাট কারো সাথে বিয়ে দেবো না।আর আমার মেয়েও এভাবে অপরিচিত কাউকে বিয়ে করবে না।
স্নিগ্ধার বাবাঃ আর আমার মেয়ে এখনো ছোট।পড়াশোনা করছে সে এখনো।সেই সাথে তারও একটা ইচ্ছে আছে।আমরা কখনই তোমাদের বা আমাদের ইচ্ছে তার উপর চাপিয়ে দিতে পারিনা।
সালমাঃ ওর আবার কিসের ইচ্ছে।মেয়েদের কোন ইচ্ছেটিচ্ছে তাকতে নেই।মেয়ের কাজ হচ্ছে বড়রা যেটা বলে সেটা চুপচাপ মাথা নিচু করে মেনে চলা।আর মেয়েকে আর কত পড়াবে শুনি।এমনিতেই এত পড়িয়েছো আরো পড়ালে তো মেয়ের বিয়ের বয়সই পার হয়ে যাবে।
স্নিগ্ধার মাঃ আমি.....
জয়নাব(সায়নির বাবা)ঃআকাশ প্লিজ তোরা মায়ের কথাই রাজি হয়ে যা।দেখ এমনিতেই সায়নি আমাদের মাথা নিচু করে দিয়েছে,এখন যদি বিয়েটা না হয় তাহলে আমরা আর কারো কাছে মুখ দেখাতে পারবো না রে।প্লিজ ভাই,আমাদের কথাটা একটু চিন্তা কর।
স্নিগ্ধার মাঃ দেখুন,আপনাদের সমস্যা সেটা পুরোটাই আপনাদের।আপনারা নিজের সমস্যা নিজের মধ্যেই ঠিক করেনিন।কেন আমার মেয়েটা এসবের মধ্যে টানছেন।আপনাদের সমস্যার সমাধানের জন্য কেন আমার মেয়েটার জীবন নষ্ট করতে উঠে পড়ে লেগেছেন।আর আমার মেয়েকে আমি এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দেবোনা।বিয়ে দিয়ে সংসার করার জন্য তো আমরা ওকে এতো পড়াশোনা করাই নিয় আর না ও বিয়ে করে সংসার করার জন্য এতো পরিশ্রম করে পড়াশোনা করছে।
সাইমা(সায়নির মা)ঃআমি বলিকি,ভাবি ঠিকই বলছে।কেন শুধু শুধু আমাদের ঝামেলার মাঝে ছোট মেয়েটা টানছো।
সালমাঃ এই তুমি চুপ থাকো তো।তোমার থেকে কেউ কিছু জ্ঞিজ্ঞেস করেছে।(স্নিগ্ধার মায়ের দিকে তাকিয়ে)আর আপনি এই বাড়ির বউ,তো এতো কথা আপনার মুখে মানাই না।তাই আমরা যা বলবো তাই হবে।
স্নিগ্ধার মাঃ প্রথমত আমি আপনাদের বাড়ির বউ না আর আমি মেয়ে বলে চুপ থাকবো এটা কখনই মনে করবেন না।আকাশ চলো এখান থেকে।এখানে যত থাকবো ততই ঝামেলা বাড়বে।
জয়নাবঃ ভাবি প্লিজ এরকম করবেন না।আকাশ প্লিজ তুই কিছু বল।আমি জানি তোর কথা ওরা কেউ ফেলতে পারবেনা।
আকাশঃ দেখ ভাই,তোর ভাবি যেটা বলছে সেটা একদম ঠিক।মেয়েটা এখনো ছোট,ওর এইসব বিয়ে,সংসার বোঝার সময় হয়নি।আর তাছাড়া ওকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন আছে,ওরও একটা স্বপ্ন আছে।আমি এভাবে ওর স্বপ্ন পূরণের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারবো না।তাছাড়া ওর ভাইও এখন এখানে নেই।ও এসে যদি এসব কিছু জানতে পারে তবে অনেক সমস্যা হয়ে যাবে।
জয়নাবঃ ও আচ্ছা তাহলে এই সমস্যা।তুই আমাকে আগে বলবি না।তুই দ্বারা আমি এখুনি আর সাথে কথা বলছি।
আকাশঃ না প্লিজ,তুই ওকে ফোন করিস না।ও যদি এসব এভাবে জানতে পারে তাহলে অনেক বড় সমস্যা হয়ে যাবে।
জয়নাবঃ ধুর কিছু হবে না।আমি ওকে বুঝিয়ে বললে দেখবি ও ঠিক রাজি হয়ে যাবে।
এটা বলিই জয়নাব নিজের ফোন বের করে স্নিগ্ধার বড় ভাইকে ভিডিও কল দেয় কারণ সে এখন দেশে নেই।স্নিগ্ধার ভাইয়া এসব জানার পর প্রচুর রাগারাগি করে আর এটাও বলে সে তার বোনকে এখন কোন মতেই বিয়ে দেবেনা।
এতক্ষণ এসব চুপচাপ শুনে গিয়েছে স্নিগ্ধা।এতক্ষণে সে উঠে দাঁড়াই।সবাই তার দিকে অবাক হয়ে তাকাই।
স্নিগ্ধার বাবাঃ স্নিগ্ধা মা কি হয়েছে?খারাপ লাগছে?
স্নিগ্ধার মাঃ কি খারাপ লাগছে?তাহলে চল বাসায় চলে যাই।
সালমাঃ যতসব ঢং,হু।
স্নিগ্ধার মাঃ আপনি প্লিজ চুপ করুন।তুই চিন্তা করিস না মা আমরা তোর ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছু করবো না।
স্নিগ্ধাঃ আমি রাজি।
স্নিগ্ধার বাবাঃ কি!
স্নিগ্ধার কথা শুনে সবাই অবাক।স্নিগ্ধার বাবা-মা সবচেয়ে অবাক।কারণ তারা জানে তাদের মেয়ে কেমন।তাহলে কেন সে এরকমটা বললো?
(হ্যালো গাইস,আশা করি ভালো আছেন।অনেকদিন পর নতুন গল্প নিয়ে আবার ফিরে এবার।গল্প আরো আগেই শুরু করতাম কিন্তু লিখবো লিখবো করে লিখা হয়ে উঠে নিয়।যার ফলে এতো দেরি হয়ে গেলো।তো যাইহোক,আশা করি এই গল্পটা আপনাদের ভালো লাগবে।স্টার্টিং টা দেখে হয়তো অনেকের মনে হতে পারে এটা অন্য গল্পগুলোর মতই হবে,একিই থিমে।কিন্তু আমি আগেই একটু বলেনিয়,এটা মোটেও অন্যগুলোর মতো কমন থিমে হবে না।আমি কিছুটা আলাদা ভাবে লেখার চেষ্টা করছি।তাই প্লিজ প্রথম পর্বে পড়ে কেউ পুরো গল্পটা সম্পর্কে ধারণা করে ফেলবেন না।এটা প্রথম পর্ব তাই কিছু সমসয় আগে দিয়েছি।এরপর থেকে গল্প সন্ধ্যা ৭ টা থেকে রাত ৯.৩০ মধ্যে দেওয়া হবে।কোথাও কোন ভুল হয়েছে থাকলে আমাকে বলবেন,আমি চেষ্টা করবো পরবর্তীতে সেটা খেয়াল রাখার।ধন্যবাদ☺)
❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤
