বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা মানেই কি টেস্ট টিউব?

 বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা মানেই কি টেস্ট টিউব? 

~~~~ ~~~~~~~~~~~~~~~~~

অনেক নিঃসন্তান রোগীদের মাঝে একটা প্রচলিত ধারণা আছে যে, যেহেতু তাদের অনেকদিন হলো বাচ্চা হচ্ছে না, কাজেই তাদেরকে টেস্ট টিউব চিকিৎসায় যেতে হবে। প্রকৃতপক্ষে বেপারটি মোটেও সেরকম নয়।


আমার রোগীদের একটা বড় অংশ পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম এর রোগী এবং এরা অধিকাংশ নিয়ম অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা পায় নি। এরা অনেকেই সঠিক চিকিৎসা পেলে বন্ধাত্বের নয়,দশ বছর পর ও গর্ভধারণ করে। সাধারণত, এই ধরণের রোগীদের জন্য ওষুধপত্র ব্যতীত গর্ভধারণ করা কঠিন। সুখবর হচ্ছে, এই রোগীদেরকে যদি ওভুলেসান ঘটানোর ওষুধপত্র সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং এর ফলাফল ট্রান্সভ্যাজাইনাল সনোগ্রাফির মাধ্যমে অব্যাহতভাবে পর্যায়ক্রমে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় চিকিত্সা প্রদান করা হয়, তবে তাদের গর্ভধারণের হার খুবই সন্তোষজনক হয়।


যাদের এক বা উভয় টিউব বন্ধ থাকে, তাদের অনেকেরই লাপারস্কপি অপারেশন এর দ্বারা টিউব খোলা যেতে পারে।


যাদের জরায়ুতে টিউমার থাকে অথবা ওভারিতে চকলেট সিস্ট অথবা অন্য কোনো টিউমার থাকে, তাদেরকে অপারেশন এর দ্বারা টিউমার বা সিস্ট অপসারণ এর পর অনেকেই গর্ভধারণ করেন।


অনেকে মহিলা এনওভুলেশন এ ভোগেন অর্থাত তাদের ওভারিগুলোতে নিয়মিত ডিম্বানু তেইরী হয় না।এই রোগীদেরকে যদি ওভুলেসান ঘটানোর ওষুধপত্র সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং এর ফলাফল ট্রান্সভ্যাজাইনাল সনোগ্রাফির মাধ্যমে অব্যাহতভাবে পর্যায়ক্রমে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ঔষধ এর মাত্রা ঠিক করে দেয়া যায়, তবে তাদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক রোগী গর্ভধারণ করেন।


বীর্যের কিছু কিছু সমস্যা শুধুমাত্র ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভবপর হয় না। সেই ক্ষেত্রে, রোগীকে ইন্ট্রাইউটেরাইন ইনসেমিনেসান (IUI) -এর পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।


সাধারণত, চিকিত্সার সব রকম প্রোটোকল শেষ হওয়ার পর রোগীকে “ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেসান”(IVF/টেস্ট টিউব বেবি)-এর পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু, এ্যাজোস্পারমিয়া (বীর্যে কোন শুক্রাণু বা স্পারমেটোজোয়া না পাওয়া), গুরুতর অলিগোএ্যাসথেনোস্পারমিয়া (শুক্রাণুর সংখ্যা ও সক্রিয়তা এতই কম যে, আই.ইউ.আই করে লাভ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না), উভয় ফ্যালোপিয়ান টিউব বন্ধ থাকলে বা ব্যাপক এন্ডোমিট্রিওসিস-এর মতো সমস্যা থাকলে (যখন দুটি টিউব খোলা আছে ঠিকই, কিন্তু, এই খোলা টিউবগুলো ডিম্বাণুটিকে পিক-আপ করতে পারে না, অর্থাত, একে টিউবের ভেতরে ঢোকাতে পারে না), তখন প্রথম সাক্ষাতেই আই.ভি.এফ-কেই একমাত্র চিকিত্সা পদ্ধতি হিসেবে পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।


অবশ্য, এই বিশেষ অবস্থাগুলো খুব কম সংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে পাওয়া যায়। সৌভাগ্যজনকভাবে, বর্তমানে বাংলাদেশেই এই সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা বিদ্যমান। সুতরাং, আপনার জীবনকে পরিপূর্ণ করে তুলতে সবরকম অকারণ দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলে শীঘ্রই একজন উপযুক্ত বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়ার চেষ্টা করুন।


Post a Comment

Previous Post Next Post