মৃত্যুর পর তিনটি আমল জারী থাকেঃ

 মৃত্যুর পর তিনটি আমল জারী থাকেঃ



>মৃত্যুর পর তিনটি আমল ব্যতীত কোন কিছুই জারী থাকে না। তাই যারা ঢালাওভাবে কাউকে শহীদ ও কারো শাহাদাতের জন্য দুয়া করে তাদের সেই দুয়া কি মৃত ব্যাক্তির কোন উপকারে আসবে? যার নিজের কোন আমল নাই তার জন্য দুয়া করে কোন লাভ হবে বলে মনে হয় না। তদুপরি সেই ব্যক্তির আক্বিদা ও আদর্শ কী ছিল সেই বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল করতে হবে। 

🔺আজকাল কুফরী অবস্থায় মারা গেলেও শহীদ বলা হয়ে থাকে, বেনামাজীরাও শহীদ, পাইপখোররাও শহীদ, হিন্দু/মুশরিক মরলেও শহীদ ইত্যাদি।

🎤____রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ

🔸মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সমস্ত আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় কেবল তিনটি আমল ব্যতীত। যথাঃ————

🔹১) ছাদাক্বায়ে জারিয়াহ।

যেমন,________

_*মসজিদ, মাদরাসা, ইয়াতীমখানা, রাস্তা ও বাঁধ নির্মাণ, অনাবাদী জমিকে আবাদকরণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থাকরণ, দাতব্য চিকিৎসালয় ও হাসপাতাল স্থাপন বই ক্রয় করে বা ছাপিয়ে বিতরণ, বৃক্ষরোপণ ইত্যাদি। 

🔹২) ইলম, যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। যেমন,_____


যা মানুষকে নির্ভেজাল তাওহীদ ও সহীহ সুন্নাহর পথ দেখায় এবং যাবতীয় শিরক ও বিদ‘আত হ’তে বিরত রাখে। উক্ত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে শিক্ষাদান করা, ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে সহযোগিতা প্রদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, বিশুদ্ধ আক্বীদা ও আমল সম্পন্ন বই-প্রবন্ধ লেখা, ছাপানো ও বিতরণ করা এবং এজন্য অন্যান্য স্থায়ী প্রচার মাধ্যম স্থাপন ও পরিচালনা করা ইত্যাদি

🔹৩) সুসন্তান, যে তার জন্য দো‘আ করে। 

যেমন,______

🔺মৃতের জন্য সর্বোত্তম পুরস্কার হ’ল সুসন্তান বা নেক সন্তান, যে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, ছাদাক্বা করে, তার পক্ষ হ’তে হজ্জ করে ইত্যাদি।

📙মুসলিম: ১৬৩১, মিশকাত: ২০৩।


🎤অন্য বর্ণনায় রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ

মৃত্যুর পর কবরে থাকা অবস্থায় বান্দার সাতটি আমল জারী থাকে। যথা:


🔸১) দ্বীনী ইলম শিক্ষা দান করা।


🔸২) নদী-নালা প্রবাহিত করা।

🔸৩) কূপ খনন করা। 


🔸৪) খেজুর তথা ফলবান বৃক্ষ রোপণ করা।  


🔸৫) মসজিদ নির্মাণ করা।


🔸৬) কুরআন বিতরণ করা এবং


🔸৭) এমন সন্তান রেখে যাওয়া, যে পিতার মৃত্যুর পর তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।


📙মুসনাদ বাযযার: ৭২৮৯; বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান; সহীহুল জামে: ৩৬০২।


🔶এটি পূর্বের হাদিসের ব্যাখ্যা স্বরূপ।🔶

===================


Chapter- 1 الْفَصْلُ الْلأَوَّلُ وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُه اِلَّا مِنْ ثَلَاثَةِ أَشْيَاءَ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِه أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَه. رَوَاهُ مُسْلِمٌ [1]


 📙সহীহ : মুসলিম ১৬৩১।

 

🔶২০৩-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যখন মারা যায় তখন তার ‘আমাল বন্ধ (নিঃশেষ) হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি ‘আমালের সাওয়াব (অব্যাহত থাকে): (১) সদাক্বায়ি জারিয়াহ্, (২) জ্ঞান- যা থেকে মানুষ উপকৃত হতে থাকে এবং (৩) সুসন্তান- যে তার (পিতা-মাতার) জন্য দু‘আ করে। (মুসলিম)[1]


🔷ব্যাখ্যা: নিশ্চয়ই মানুষ যখন মারা যায় তখন তার ‘আমালের সাওয়াব আর লেখা হয় না, কেননা সাওয়াব মূলত তার ‘আমালের বদলা আর তা ব্যক্তি মারা যাওয়ার সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায়। তবে সর্বদাই কল্যাণকর ও উপকারী কাজের বদলা চলতে থাকে। যেমন- কোন কিছু ওয়াকফ করে যাওয়া অথবা শারী‘আতী বিদ্যা লিখে যাওয়া অথবা শিক্ষা দিয়ে যাওয়া বা ব্যবস্থা করে যাওয়া অথবা সৎ সন্তান রেখে যাওয়া। সৎ সন্তান মূলত ‘আমালেরই আওতাভুক্ত, কেননা পিতাই মূলত সন্তানের অস্তিত্বের কারণ ও তাকে সঠিক দিক-নির্দেশনা দিয়ে সৎ করে তোলার কারণ। সন্তান ছাড়া অন্য কেউ যদি মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করে তাহলে মৃত ব্যক্তির জন্য ঐ দু‘আ কাজে আসবে তথাপিও হাদীসে সন্তানকে নির্দিষ্ট করার কারণ হচ্ছে সন্তানকে দু‘আর ব্যাপারে উৎসাহিত করা।



Post a Comment

Previous Post Next Post