কেমন হতে পারে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের ওয়ানডে স্কোয়াড?নিজের ভাবনার জায়গা থেকে আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক...
১.তামিম ইকবাল(অধিনায়ক)
-ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন
২.লিটন দাস-
বিগত দুই সিরিজে ব্যর্থ হলেও টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার জায়গায় ও বাড়তি হিসেবে কিপিং করার সক্ষমতায় তিনি থাকছেন-নিঃসন্দেহে বলাই যায়।
৩.সৌম্য সরকার-
তিনিও গত সিরিজে ব্যাটিংয়ে পুরোপুরি ব্যর্থ।তবে টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনায় তিনি বরাবরই আছেন;তাই কোনো না কোনোভাবে তাকে বিভিন্ন পজিশনে খেলিয়ে স্ট্যাবল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।এক্ষেত্রে পেস বোলিং সক্ষমতা তার জন্য বাড়তি এডভান্টেজ হিসেবে কাজ করে।(একাদশে থাকলেও কোন পজিশনে তিনি খেলবেন,সেটা অনিশ্চিত)
৪.সাকিব আল হাসান-
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার,বাংলাদেশের প্রাণ ফিরছেন।
৫.মুশফিকুর রহিম-
কিপিং করবেন কিনা এই ধোঁয়াশা,আলোচনা-সমালোচনা চললেও ব্যাটসম্যান মুশফিক দলের জন্য অপরিহার্য
৬.মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ-
ফিনিশিংয়ের ভূমিকাটা তার হাতেই থাকছে(ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও '২৩ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বোর্ড আর ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা তাকে ঘিরেই)
৭.ইমরুল কায়েস-
এটিই প্রাথমিক স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় অপ্রত্যাশিত চমক ছিল।পরবর্তীতে জানা যায়,তিনি ক্যাপ্টেন তামিমের চাওয়াতেই দলে এসেছেন।তিনি থাকছেন-ক্রিকেটপাড়ার গুঞ্জনটা সত্যিই হতে চলেছে,যদি না শেষ মুহূর্তে বড় কোন অঘটন না ঘটে।
সম্ভবত ৫ নম্বরে নেমে ব্যাট করবেন তিনি
৮.মেহেদী হাসান মিরাজ-
স্পেশালিস্ট স্পিনারের ইম্প্যাক্ট বিবেচনায় প্রশ্ন থাকলেও রান আটকানোর দায়িত্বে তিনি থাকছেন,শতভাগ নিশ্চিত
৯.মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন-
সাইফুদ্দীন এখন ফিট আছেন,স্কোয়াডে জায়গা নিশ্চিত।
১০.তাসকিন আহমেদ-
তাসকিন বোলিং এটাকে আক্রমণের মূল দায়িত্বে থাকবেন।উইকেট টেকিং অপশন হিসেবে তামিমের মূল তুরুপের তাস।
১১.মুস্তাফিজুর রহমান-
দ্য ফিজ আইপিএল থেকে ফিরে কোয়ারেন্টাইন শেষ করে ম্যাচপূর্ব ট্রেনিং সেশনের প্রস্তুতির অভাব থাকলেও প্রথম ম্যাচেই একাদশে ফিরছেন।
১২.শরিফুল ইসলাম-
রুবেল,হাসান মাহমুদের ইনজুরিতে শরিফুলের স্কোয়াডে জায়গা প্রায় নিশ্চিত।
১৩.মাহেদী হাসান-
নিউজিল্যান্ডে প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন, সম্ভবত মূল দলে তার জায়গাটা অক্ষুণ্ণ থাকছে স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে।
১৪.মোহাম্মদ মিথুন-
ভক্ত-মিডিয়ার সমালোচনা সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ড সিরিজে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে কার্যকরী ব্যাটিংয়ের কারণে তিনি সম্ভবত থাকছেন।
প্রথম এই ১৪ জনের জায়গা দলে নিশ্চিত বলাই যায়,এদের মধ্যে ১১ জনই মূল একাদশে থাকছেন সম্ভবত শেষ ১ টি জায়গা নিয়েই ভাবনার জায়গাটা থাকবে,যেমন নির্বাচকদের,তেমনি ভক্ত-সমর্থক-মিডিয়ার।কেউ চাইবেন এই জায়গায় বাড়তি ব্যাটসম্যান খেলাতে,সেক্ষেত্রে জায়গাটা নিয়ে আলোচনায় থাকবেন নাজমুল হোসেন শান্ত(কোচ রাসেল ডোমিংগোর সমর্থন পাবেন)।কেউ চাইবেন মিডল অর্ডারের ব্যাকআপ+গান ফিল্ডার হিসেবে আফিফ হোসেন ধ্রুবকে,এই জায়গায় লড়াইয়ে থাকবেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।কেউবা চাইবেন স্পেশালিস্ট স্পিনার,সেক্ষেত্রে আলোচনায় নাসুম/তাইজুল।আবার ইনজুরির ভিড়ে বাড়তি পেসার স্কোয়াডে চাইলে নিশ্চিতভাবে থাকছেন শহীদুল ইসলাম।অনেকে হয়তোবা বাড়তি উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানকে টিমম্যান হিসেবে চাইবেন(যার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ)।
শেষ কথা হল,আমার স্কোয়াডে কে থাকছেন।আমি থাকলে হয়তোবা ব্যক্তিগত পছন্দের জায়গা থেকে যাকে রাখছি তিনি হলেন
১৫.আফিফ হোসেন ধ্রুব
আফিফকে রাখার কারণ,ব্যাটিংয়ে তার ইতিবাচকতা,স্লো বোলিংয়ে(স্পিন করান না,তাই স্পিনার বলবো না) ব্রেক থ্রু আনার ক্ষমতা।আর যে জায়গাটায় অন্য সবার থেকে এগিয়ে,সেটা হল ফিল্ডিং(এই বিবেচনায় শান্ত তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী)।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মিডল/লেট মিডল অর্ডারের বিবেচনায় আফিফকে আমার কাছে যোগ্য মনে হয়েছে।যদিও এটাও প্রায় নিশ্চিত,তিনি বা যে ই এই জায়গাটায় আসুন, প্রথম একাদশের ভাবনায় থাকছেন না।
ভদ্রত বজায় রেখে যুক্তিযুক্ত ক্রিকেটীয় চিন্তাপ্রসূত যে কোন দ্বিমত,তর্ক,গঠনমূলক আলোচনা সদাকাম্য।
উল্লেখ্য এখানে ১৫ জনের নাম ব্যাটিং অর্ডার অনুযায়ী সাজাইনি,র্যান্ডমলি লিখে গেছি
