হ্যাগলুন্ড ডিফরমিটি কি⁉️

 হ্যাগলুন্ড ডিফরমিটি কি⁉️

💁‍♂️হ্যাগলুন্ড ডিফরমিটি এমন একটা অবস্থা যখন গোড়ালির পিছনের অংশে ক্যালকেনিয়াম হাড় একিলিস টেনডনে সংযুক্ত হয়েছে সেখানে শক্ত ফোলা দৃশ্যমান হয়, ফলে প্রচন্ড ব্যথা ও লালাভাব দেখা যায়। 

প্যাট্রিক হ্যাগলুন্ড নামের একজন ডাক্তার ১৯২৮ সালে এটি প্রথম বর্ণনা করেন বলে তার নাম অনুসারে হ্যাগলুন্ড ডিফরমিটি নামকরণ করা হয়।


কারণ:

জুতা: যারা  পিছনে শক্ত ফিতা যুক্ত জুতা ব্যবহার তাদের বেশি হয় এই রোগ, এমনি যারা শক্ত জুতা পড়ে দাঁড়িয়ে দীর্ঘদিন সময় ডিউটি করে তাদেরও হতে পারে। শীতকালীন ও বর্ষাকালীন শক্ত বুট জুতা ব্যবহারকারী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

বংশগত: অনেকের বংশগত কারনেও হয় যেমন যাদের পায়ের আর্চ বেশি থাকে তাদের এই সমস্যা বেশি হয়।

মাংসপেশি টাইট: কাফ মাসল যদি বেশি টাইট থাকে তাহলে বার্সাতে বেশি চাপ পড়ে এর ফলে প্রদাহ বেড়ে যায়।

ভুল হাঁটার পদ্ধতি: অনেকে হাঁটার সময় পায়ে বাইরের পাশে বেশি চাপ দিয়ে হাঁটে এতে একলিস টেনডনে বেশি চাপের ফলে হয়।

অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া


লক্ষণ

☘️গোড়ালি ব্যথা হয় 

☘️গোড়ালির পিছনে খুব শক্ত মাংসপিন্ড দেখা যায়, এটা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

☘️লাল : গোড়ালির পিছনে বার্সাতে প্রদাহের কারণে লাল রং ধারণ করে।

☘️ গোড়ালি ফুলে যায়


পরিক্ষা:

✔️এক্স-রে: এক্স-রে করলে ক্যালকেনিয়াল হাড় বেড়ে যাওয়া দেখা যায়।

✔️ মাসকুস্কেলিটাল আল্টাস্নোগ্রাফি: এতে বার্সা ও টেনডনের প্যাথলজিক্যাল অবস্থা দেখা যায়।

✔️এমআরআই ( MRI) : বার্সা ও টেনডনের প্যাথলজিক্যাল অবস্থা বোঝা যায়।


➡️ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা 


↘️সঠিক জুতা: পিছনের ফিতা ছাড়া নরম জুতা ব্যবহার করুন 

↘️হিল কুশন: নরম হিল কুশন / প্যাড ব্যবহার করুন যাতে হাঁটতে পায়ে বেশি চাপ না পড়ে।

↘️আল্টাসাউন্ড থেরাপি: আল্টাসাউন্ড থেরাপি প্রদাহ অনেক কমিয়ে দেয়।

↘️স্ট্রেচিং: কাফ মাসল স্ট্রেচিং এক্সারসাইজের মাধ্যমে টাইট কমাতে হয়,  তবে একিলিচ টেনডন যদি ক্ষতিগ্রস্থ  থাকে তবে করা উচিত নয়।

↘️আইস থেরাপি : ফোলা ও প্রদাহের জন্য গোড়ালির পিছনে বরফের সেক নিন ১০-২০ মিনিট দিনে তিনবার।

↘️দৈনদৈনিক জীবনের নিয়ম: খালি পায়ে হাঁটবেন না, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা নিষেধ,  উঁচুতে হাঁটবেন না।


💥ঔষধ:

↘️ব্যথানাশক ঔষধ: ব্যথানাশক ঔষধ প্রদাহ ও ব্যথা কমায়। ব্যথানাশক ঔষধ সাময়িক উপশম দিবে।

↘️ব্যথানাশক জেল: ব্যথানাশক জেল গোড়ালির পিছনের অংশে লাগালে কিছুটা ব্যথা উপশম হবে।


➡️সার্জারি: ক্যালকেনিয়াল হাড় অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তবে সার্জারির প্রয়োজন হয়। তবে অ্যাকলিস টেনডন ইনজুরি হবার ভয় থাকে। অধিকাংশ রোগি ফিজিওথেরাপি ও কনজারভেটিভ চিকিৎসায় ভাল হয়ে যায়।



Post a Comment

Previous Post Next Post